Request to conduct market monitoring activities collectively under the supervision of the district administration=Word File
ওয়ার্ড ফাইল
সূত্র: প্রশা/প/সিআরবি-৬৫৮/২- শাখা কোড
তারিখ : ১৯/০৯/২০২৬ইং
বরাবর,
জেলা প্রশাসক
নরসিংদী।
বিষয়: মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পণ্যের ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা প্রদান এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সকল সরকারি সংস্থার সম্মিলিতভাবে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ।
জনাব,
ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন- ভলান্টারি মুভমেন্ট কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ-সিআরবি’র নরসিংদী জেলা শাখার পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধকল্পে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আপনার সুদৃষ্টিতে আনতে চাই।
১. পণ্যের ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলককরণ : গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।এর প্রধান কারণ হলো অধিকাংশ খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পাইকারি পর্যায়ে ক্রয়কৃত পণ্যের বৈধ ক্রয় রশিদ না থাকা। ক্রয় রশিদের অভাবে ভোক্তা ও প্রশাসনের পক্ষে পণ্যের প্রকৃত মূল্য যাচাই করা সম্ভব হয় না, যা অসাধু ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পায়। তাই মাহে রমজানে সকল ব্যবসায়ীর জন্য পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে পণ্যের ক্রয় রশিদ রাখা বাধ্যতামূলক করার জন্য আপনার নির্দেশনা জারি করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়ে উপকৃত হবেন।
২.সম্মিলিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম গ্রহণ: বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা (জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিএসটিআই ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর) পৃথক পৃথকভাবে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে শহরের প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে একাধিক সংস্থার উপস্থিতি দেখা গেলেও, অনেক এলাকা মনিটরিংয়ের আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে সে সব এলাকার সাধারণ মানুষ অসাধু বণিকদের মূল্যলুণ্ঠনের শিকার হন। তাই আমাদের প্রস্তাব, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত এবং পরিকল্পিত ভাবে একটি যৌথ বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হোক। এতে মনিটরিং কার্যক্রমের সুফল সর্বজনীনভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
৩.এলপি গ্যাসের মূল্য ও অনিয়মের শাস্তি : সাম্প্রতিক সময়ে এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি মহল ভোক্তাদের কাছ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ লুণ্ঠন করেছে। অনিয়ম হাতে-নাতে ধরা পড়লেও শুধু জরিমানার মাধ্যমে অনেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন। জরিমানার ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে ব্যবসায়ীরা আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে ভোক্তাদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে এবং পক্ষান্তরে গ্যাসের মূল্য এখনও স্থিতিশীল হয়নি। তাই রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমরা আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি :
অবৈধ ভাবে এলপি গ্যাস বিক্রেতা ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করুন।রমজানে কোনো ব্যবসায়ীর অপরাধ প্রমাণিত হলে, জরিমানার পরিবর্তে জেলের বিধান কার্যকরের আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ জরিমানা দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আয় বণিকদের ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। আমাদের দাবী প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১ দিনের কারাদ-র মতো কঠোর শাস্তি প্রদানের বিধান কার্যকর করা হলে বণিকদের মধ্যে পরিবর্তন আসবে। কারণ, সামাজিক ও আইনত প্রশ্নবিদ্ধ না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের আচরণ পরিবর্তন করবেন না।
আমরাবিশ্বাস করি, আপনার সুদক্ষ ও কঠোর নেতৃৃত্ব এবং প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পবিত্র মাহে রমজানে নরসিংদীর সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বাজার করতে পারবেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিরোধের মুখে পড়বেন।
অতএব, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উপরোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করছি।
শাখার পক্ষে
ধন্যবাদান্তে
(আব্দুল হান্নান মানিক) (নগেন্দ্র নাথ বনিক)
সভাপতি সাধারণ সম্পাদক
ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-সিআরবি ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-সিআরবি
নরসিংদী জেলা শাখা, কোড-২০২ নরসিংদী জেলা শাখা, কোড-২০২
অনুলিপি :
১। উপ-পরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নরসিংদী জেলা।
২। নিরাপদ খাদ্য অফিসার, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, নরসিংদী জেলা।
৩। উপ-পরিচালক, বিএসটিআই নরসিংদী।
৪। উপ-পরিচালক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, নরসিংদী।
৫। উপজেলা নির্বাহী অফিসার,…………………… উপজেলা, নরসিংদী। (সকল)
৬। প্রশাসক,…………………………………….. পৌরসভা, নরসিংদী। (সকল)